২০০৬ সালে হারারেতে মুশফিকের যেদিন অভিষেক হয়, সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন খালেদ মাসুদ। উইকেটের পেছনেও ছিলেন তিনিই। পরের বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের দলে জায়গা পান মুশফিক। সেই থেকে বাংলাদেশের একটি বেড়ে ওঠা প্রজন্ম উইকেটের পেছনে বেশিরভাগ সময় একজনকেই দেখেছে। মুশফিকুর রহিম— যাকে ভক্তরা ভালোবেসে ডাকে ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’। এবার একদিনের ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন মুশি।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাজে পারফরম্যান্সের জন্য নানা সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন মুশফিক। কথা হচ্ছিল ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে তার অবসর নিয়েও। এবার সেই ধারণাই সত্যি হলো।
বুধবার (৫ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে মুশফিক জানান জাতীয় দলের লাল-সবুজ জার্সিতে তাকে একদিনের ম্যাচে আর দেখা যাবে না।
মুশফিক লেখেন, আমি আজ থেকে ওয়ানডে ফরম্যাট থেকে অবসর নিচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ, এই দীর্ঘ পথচলার জন্য। হয়তো বিশ্ব ক্রিকেটের মঞ্চে আমাদের অর্জন সীমিত ছিল, তবে আমি সবসময় শতভাগের বেশি চেষ্টা করেছি, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে মাঠে নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করেছি।
অবসরের ঘোষণায় মুশফিক তার পরিবার, বন্ধু এবং ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমি গভীরভাবে আমার পরিবার, বন্ধু এবং ভক্তদের ধন্যবাদ জানাই, যাদের ভালোবাসার জন্য আমি ১৯ বছর ক্রিকেট খেলেছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন এবং সঠিক ঈমান দান করুন।
মুশফিকুর রহিমের এই অবসর বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি। ওয়ানডে ক্রিকেটে তিনি খেলেছেন ২৭৪ ম্যাচে। ২৫৬ ইনিংসে তিনি রান করেছেন ৭৭৯৫। তার ক্যারিয়ারসেরা ১৪৪ রানের ইনিংসটি এসেছিল ২০১৮ এশিয়া কাপে, যা বাংলাদেশ ক্রিকেটেরই অন্যতম সেরা এক ইনিংস হিসেবে বিবেচিত হয়।
উইকেটের পেছনে ভূমিকার জন্য নন্দিত হয়েছেন যেমন, বহুবার সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে। তিনি এই ফরম্যাট ছাড়ার আগে নামের পাশে রেখে যাচ্ছেন ২৪৩টি ক্যাচ, আর ৫৬টি স্ট্যাম্পিং।
চলমান আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে রাওয়ালপিন্ডিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের শেষ একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন মুশফিকুর রহিম। ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারেননি।
উল্লেখ্য, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটকে আগেই বিদায় বলে দিয়েছেন মুশফিক। এবার তিনি তার পুরো মনোযোগটা দেবেন টেস্ট ক্রিকেটে। ইতোমধ্যে ৯৪টি টেস্ট খেলে ফেলেছেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম শত টেস্ট খেলার মাইলফলক উঁকি দিচ্ছে মুশফিককে।
Comments 0