"রোজা রাখবো ইফতার করবো সবাই একি সাথে মাগো তুমি ডেকে দিও আমায় সাহারীতে.... মাগো মা ওগো মা ডাকতে ভূলে যেয়ো না..."
"রোজা রাখবো ইফতার করবো সবাই একি সাথে মাগো তুমি ডেকে দিও আমায় সাহারীতে.... মাগো মা ওগো মা ডাকতে ভূলে যেয়ো না..."
রমজানের রোজা যদিও ছোটদের জন্য ফরজ না তথাপি সেই ১৪০০ বছর আগে থেকেই ছোটরাও রোজা পালন করে আসছে সখের বসে, কেইবা মা-বাবা,ভাই-বোন সহ পরিবারের সবার সাথে সাহারী খাওয়ার আনন্দে আবার কেউবা ইসলামী পরিবারের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে এবাদত মনে করে। হযরত ওমর (রা:) এর একটি বিচারিক উক্তি শুনে এমনটিই মনে হয়েছে---
"রমযানে দিনের বেলায় এক নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমাদের বাচ্চারা পর্যন্ত সওম পালন করছে । তোমার সর্বনাশ হোক! অতঃপর ‘উমার (রাঃ) তাকে মারলেন"।
বর্তমান সময় অনেক পরিবারে ছোটদেরকে এমন কি যাদের বয়স ১৪/১৮ বছর তাদেরকেও পরীক্ষা আছে,শরীর ভালোনা,অসুখ করবে এরকম নানা অযুহাতে রোজা রাখতে বারন করা হয়। অথচ ছোটদের রোজার চমৎকার বিবরণ পাওয়া যায় বুখারী শরিফের একটি হাদিস থেকে।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ ذَكْوَانَ عَنْ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذٍ قَالَتْ أَرْسَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم غَدَاةَ عَاشُورَاءَ إِلَى قُرَى الأَنْصَارِ مَنْ أَصْبَحَ مُفْطِرًا فَلْيُتِمَّ بَقِيَّةَ يَوْمِهِ وَمَنْ أَصْبَحَ صَائِمًا فَليَصُمْ قَالَتْ فَكُنَّا نَصُومُهُ بَعْدُ وَنُصَوِّمُ صِبْيَانَنَا وَنَجْعَلُ لَهُمْ اللُّعْبَةَ مِنْ الْعِهْنِ فَإِذَا بَكَى أَحَدُهُمْ عَلَى الطَّعَامِ أَعْطَيْنَاهُ ذَاكَ حَتَّى يَكُونَ عِنْدَ الإِفْطَارِ
রুবায়্যি’ বিনতু মু’আব্বিয (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ‘আশুরার সকালে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনসারদের সকল পল্লীতে এ নির্দেশ দিলেনঃ যে ব্যক্তি সওম পালন করেনি সে যেন দিনের বাকি অংশ না খেয়ে থাকে, আর যার সওম অবস্থায় সকাল হয়েছে, সে যেন সওম পূর্ণ করে। তিনি (রুবায়্যি’) (রাঃ) বলেন, পরবর্তীতে আমরা ঐ দিন সওম পালন করতাম এবং আমাদের শিশুদের সওম পালন করাতাম। আমরা তাদের জন্য পশমের খেলনা তৈরি করে দিতাম। তাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদলে তাকে ঐ খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতাম। আর এভাবেই ইফতারের সময় হয়ে যেত।
(বুখারী। ১৯৬০)
আলোচ্য হাদিসের সাথে আমাদের ছোটো বেলার অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায় ,যখন ছোট ছিলাম তখন রোজা রাখতাম খুদা লাগলে মা আমাদের খেলতে পাঠাতো।
শিশু অধিকার নিয়ে যারা কাজ করে তারা হয়ত বলবে রোজার মাসে শিশু অধিকার কিভাবে বাস্তবায়িত হবে।
আল্লাহর রসুল শিশুদের অধিকার সুন্দর ভাবে বর্নণা করেছেন যা সুনানে আন নাসায়ী- ২৩১৫ নাম্বার হাদিসে এসেছে--
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ وُهَيْبِ بْنِ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَوَادَةَ الْقُشَيْرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رَجُلٌ مِنْهُمْ أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْمَدِينَةِ وَهُوَ يَتَغَدَّى، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلُمَّ إِلَى الْغَدَاءِ»، فَقَالَ: إِنِّي صَائِمٌ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَضَعَ لِلْمُسَافِرِ الصَّوْمَ وَشَطْرَ الصَّلَاةِ، وَعَنِ الْحُبْلَى وَالْمُرْضِعِ»
আনাস ইব্ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
সাহাবীদের থেকে এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে মদীনায় আসলেন। তখন তিনি দ্বিপ্রহরের আহার করছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন যে, খেতে এসো। তিনি বললেনঃ আমি তো সাওম (রোযা) পালন করছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন যে,আল্লাহ তা’আলা মুসাফির, গর্ভবর্তী এবং স্তন্য দানকারিণী মহিলার উপর থেকে সাওম (রোযা)-কে মুলতবী ও অর্ধেক সালাতকে রহিত করে দিয়েছেন।
পবিত্র রমজান মাসে আমরা আমাদের বাচ্চাদের সামনে রোজার ফজিলত , গুরুত্ব ও মাহত্ব বুঝিয়ে ছোটবেলা থেকেই রোজা রাখার মানসিকতা সম্পন্ন মুমিন হিসেবে গড়ে তুলি।
০৪টি কলেজের পাঠদানের অনুমতি প্রত্যাহার এবং ০১টি কলেজের পাঠদানের অনুমতি স্থগিতকরণ প্রসঙ্গে।
January 27, 2025
Comments 0